অন্যান্য

বিলাসী জীবন যাপনে ব্যয় হওয়া টাকার অধিকাংশ অবৈধভাবে হুন্ডির মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে লন্ডনে পাচার করা হয়

যেখানে পাকিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট ইস্কান্দর মির্জাকে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে লন্ডনেই হোটেলের ম্যানেজার, উগান্ডার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইদি আমিনকে সৌদি আরবে ঝাড়ুদার, ইরানের নেতা রেজা শাহ পাহলবীকে প্রচ- অর্থকষ্টে জীবন যাপন করতে হয়েছিল, সেখানে বিনা রোজগারে তারেক রহমান বিলাসী জীবন যাপন করছেন। বিষয়টি রীতিমত আলোচনার বিষয়বস্তু হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্যক্তিগত রোজগার না থাকলেও লন্ডনে পরিবার নিয়ে কিভাবে বিলাসী জীবনযাপন করছেন একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার মত ভয়াবহ রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের মাস্টারমাইন্ড বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন তারেক রহমান? প্রতিমাসে খরচ করেন বাংলাদেশী মুদ্রায় আনুমানিক অন্তত পাঁচ লাখ টাকা। ব্যবহার করেন দুইটি বিলাসবহুল গাড়ি। কিন্তু তার এতো টাকার উৎস বা সম্পদ কোথা থেকে আসে? কিভাবে এরকম বিলাসী জীবনযাপন করে তিনি?
বিলাসী জীবন যাপনে ব্যয় হওয়া টাকার অধিকাংশ অবৈধভাবে হুন্ডির মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে লন্ডনে পাচার করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ জন্য তারেক রহমানের যাবতীয় সম্পদ, আয় ও ব্যয় হওয়া অর্থের উৎস সম্পর্কে তদন্তে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন। সিদ্ধান্ত মোতাবেক দুদক অত্যন্ত কঠোর গোপনীয়তার মধ্যদিয়ে তারেক রহমানের সম্পদ, আয় ও ব্যয় হওয়া অর্থের উৎস সম্পর্কে তদন্ত করে যাচ্ছে। দীর্ঘ দিন বিষয়টি অনুসন্ধানের দায়িত্ব পালন করেছেন দুদকের উপ-পরিচালক মো. হারুনুর রশিদ। সম্প্রতি তিনি অবসরে যাওয়ায় নতুন তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন দুদকের সহকারী পরিচালক হাফিজুর রহমান। এ বিষয়ে আগের তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদকের উপপরিচালক মো. হারুনুর রশীদ বলেন, তদন্তে অনেক বিষয়ের সত্যতা মিলেছে। শুধু বাংলাদেশ নয়, খোদ যুক্তরাজ্যেও বিষয়টি নিয়ে চলছে নানা আলোচনা সমালোচনা। তারেক রহমানের বিলাসী জীবন যাপনের জন্য ব্যয় হওয়া অর্থ কিভাবে কোথা থেকে আসছে তা নিয়ে খোদ যুক্তরাজ্যেও ব্যাপক গুঞ্জন আছে। যুক্তরাজ্য সরকার, দেশটির একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা ও বিদেশী গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও বিষয়টির তদন্ত করে যাচ্ছে। যুক্তরাজ্যে অনেকটা প্রকাশ্যেই ঘুরে বেড়ান তারেক রহমান। প্রকাশ্যে ঘোরাফেরার কারণেই তারেক রহমানের বিলাসী জীবনযাপন সম্পর্কে অনেক অজানা তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। শুধু যে মানুষের মুখে মুখে তাই নয়, রীতিমত গণমাধ্যমেও প্রকাশ পেয়েছে তারেক রহমানের বিলাসী জীবনযাপনের নানা কাহিনী। সূত্রটি বলছে, তারেক রহমান লন্ডনে যাওয়ার পর থেকেই এনফিল্ড টাউন ও সাউথ গেট এলাকার মাঝামাঝি অবস্থিত যুক্তরাজ্য বিএনপির প্রভাবশালী এক নেতার কেনা একটি বিলাসবহুল বাড়িতে বসবাস শুরু করেন। লন্ডনে দীর্ঘ সময় বসবাসের সুযোগ করে নেয়ার পরিকল্পনা করছিলেন, এজন্য তিনি ২০০৮ সালেই লন্ডন থেকে বার এট ল ডিগ্রী (ব্যারিস্টার) সম্পাদনের উদ্যোগ নেন। কিন্তু তারেক রহমান বাংলাদেশী গ্র্যাজুয়েট হওয়ায় বিপত্তি দেখা দেয়। ব্রিটেনের নিয়মানুযায়ী তাকে প্রথমেই লন্ডনের কোন একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ব্যাচেলর ডিগ্রী অর্জন করার শর্ত জুড়ে দেয়া হয়। তিনি ব্যাচেলর ডিগ্রী অর্জন করতে ব্যর্থ হন। এক্ষেত্রে কোন রাজনৈতিক সুবিধাও পাননি তিনি। এরপর তিনি সাউথ ব্যাংক ইউনিভার্সিটি এবং কুইন মেরী ইউনিভার্সিটিতে ব্যাচেলর ডিগ্রী ছাড়াই বার এট ল করার উদ্যোগ নেন। কিন্তু ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষ তারেক রহমানকে সরাসরি ফিরিয়ে দেয়। এরপর থেকে অনেকটা স্থায়ীভাবেই উক্ত বাড়িতেই বসবাস শুরু করেন তিনি। পরে তারেক রহমান ক্যাব্রিজ হিথ রোড থেকে দুটি বিলাসবহুল গাড়ি কিনেন। এর মধ্যে একটি বিএমডব্লিউ সেভেন সিরিজের। অপরটি অডি। প্রতিমাসে লেক সাইড ও ব্লু ওয়াটার এবং সেন্ট্রাল লন্ডনের সেলফ্রিজেস থেকে শপিং করতেন। এছাড়া সেলফ্রিজেসের হোম এক্সেসরিজেও যেতেন। সেলফ্রিজ ও ব্লু ওয়াটার যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে বিলাসবহুল এবং ব্যয়বহুল শপিং মল। ব্রিটেনের ধনীরাই সাধারণত সেখানে কেনাকাটা করে থাকেন। বিগত প্রায় ১০ বছর ধরে লন্ডনে বসবাস করছেন তিনি। দীর্ঘ সময়ে তিনি কোন অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের সঙ্গে জড়িত নন। স্ত্রী ডা. জুবাইদা গুলশান আরাও কিছু করেন না। উপরন্তু মেয়ে জাইমা লন্ডনে পড়াশোনা করছে। তারেক রহমান ব্রিটেনে রাজনৈতিক আশ্রয় পেয়েছেন। বাংলাদেশে তারেক রহমান ও তার মা বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার বেশ কয়েকটি ব্যাংক এ্যাকাউন্ট জব্দ করা আছে। সে সুবাদে তারেক রহমানের একমাত্র বৈধ রোজগার হিসেবে তাঁর মা খালেদা জিয়ার সংসদের বেতন। বেতনের টাকা দিয়ে তারেক রহমানের এমন বিলাসী জীবন যাপনের জন্য ব্যয় হওয়া একাংশও মেটানো সম্ভব নয়। তারপরেও তারেক রহমানের বিলাসী জীবনযাপন করে যাচ্ছেন। যা রীতিমত বিস্ময়ের ব্যাপার। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ বন্ধু গিয়াস উদ্দিন আল মামুনের সহযোগিতায় সিঙ্গাপুরে ২০ কোটি ৪১ লাখ ২৫ হাজার টাকা পাচার করা হয়েছে। যা পরবর্তীতে তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। সেই টাকা পরবর্তীতে বাংলাদেশ ব্যাংকে ফেরত আনা হয়েছে। এছাড়া তারেক রহমানের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যে ৬ কোটি ১ লাখ ৫৭ হাজার টাকা পাচার করার অভিযোগ রয়েছে। বিদেশে অবৈধভাবে অর্থ পাচারের অভিযোগে তারেক রহমান ও গিয়াস উদ্দিন আল মামুনের বিরুদ্ধে ঢাকার বিশেষ আদালতে তথ্য প্রমাণ দাখিল ও সাক্ষীদের জবানবন্দীর ভিত্তিতে চার্জ গঠন করা হয়েছে। এরকম একজন ধূর্তমান ব্যক্তি কিংবা তার দলকে সমর্থন করা কতোটুকু যুক্তিযুক্ত, সেটিই এখন প্রশ্ন।

আপনার রিএকশন কি?

একই রকম আরও কিছু আর্টিকেল

১৯৭১ সালের ২০ নভেম্বর: যেমন ছিল মুক্তিযুদ্ধের ঈদের দিন

লিখেছেন Safkat Hasan Pial
101
52

১৯৭১ সালের ঈদের দিন ছিল আজকের এই দিনে তথা ২০ নভেম্বর। সেই ঈদ ছিল ঈদ-উল-ফিতর। ঈদ মানেই উচ্ছ্বাস, উদ্দীপনা আর উৎসব হলেও মুক্তিযুদ্ধে ঈদ ছিল অন্যরকম। ঈদটি ছিল কেবলই মাতৃভূমির জন্য নিজেকে বিলিয়ে দেওয়ার।

প্রধানমন্ত্রীকে ফোন করে ধন্যবাদ রাজা চার্লসের

বার্কিংহাম প্রাসাদ থেকে শেখ হাসিনাকে ফোন করেন নতুন রাজা। ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লস তার মা রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় যোগ দিতে আসায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ দিয়েছেন।

লিখেছেন Safkat Hasan Pial
101
52

যাদু-টোনা বা কবিরাজি বিদ্যা ছাড়া বিএনপির ক্ষমতায় আসা অসম্ভবঃ মির্জা ফখরুল

যাদু-টোনা বা কবিরাজি বিদ্যা ছাড়া বিএনপির ক্ষমতায় আসা অসম্ভবঃ মির্জা ফখরুল দলের অভ্যন্তরে সমন্বয়হীনতা, সিনিয়র নেতাদের ষড়যন্ত্র, বেগম খালেদা জিয়াকে অবমুক্ত না করার উদ্যোগসহ বিভিন্ন কারণে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুলের সাথে ক্রমশ দূরত্ব বাড়ছে তারেক রহমানের। বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রের বরাতে

লিখেছেন Duke
13k
6,817

এভাবে কি ক্ষমতায় আসা যায় বিএনপি???

হায় হায় পার্টি হল বিএনপি, যারা কখোনো কোনো কিছুতেই তুষ্ট হয় না । কোনো না ভাবেই তাদের সহজ স্বাভাবিক ব্যাপারকে ঘোলাটে পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে নিতেই হবে। নির্বাচন নিয়ে চলছে তাদের যত তালবাহানা অবশ্য এসব অনেক বছর থেকেই চলছে। তাদের মনোনীত প্রার্থী জিতলে নির্বাচন সুষ্ঠ হয় আর না জিতলে নির্বাচন কারচুপি হয়েছে

লিখেছেন Duke
11k
5,380

To British High Commission, Dhaka, Bangladesh

UK in Bangladesh Facebook page of British High Commission, with all the good intention, raises claims of disappearance in Bangladesh. Appreciating such concern from friendly UK High Commission we as citizens believe our Government will do the needful to investigate all such claims, impartially

লিখেছেন নাহিদরেইন্স
108
55

তারেক রহমানের হাত ধরে বাংলাদেশিরা সন্ধান পায় সুইস ব্যাংকের

লিখেছেন Duke
108
56

সারা বিশ্বের কালো টাকার আড়ত হিসেবে খ্যাত সুইজারল্যান্ডের সুইস ব্যাংক। হিসাব বহির্ভূত আয় জমা রাখার এক অভিনব ব্যাংক এটা। সম্প্রতি সুইস ব্যাংকে কে বা কারা টাকা রেখেছে তার তালিকা নিয়ে হুলস্থূল কাণ্ড-কারখানা চলছে।কিন্তু কথা হলো- কিভাবে বাংলাদেশিরা এই সুইস ব্যাংকের সন্ধান পেলো? কার হাতে এর সূত্রপাত?জানা গেছে, বাংলাদেশিদের মধ্যে সর্বপ্রথম সুইস ব্যাংকে অবৈধ টাকা রাখেন খালেদা জিয়ার বড় পুত্র তারেক রহমান। ২০০১-০৬ সাল বাংলাদেশে অঘোষিতভাবে রাজত্ব করেছিলেন